জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন আদেশ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ সীমিত করতে নতুন আদেশ জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তার আগের উদ্যোগ বাতিল করে দেওয়ার পর এবার তিনি নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্বাক্ষরিত দুটি নির্বাহী আদেশের মধ্যে প্রথমটিতে এমন কিছু অ-নাগরিকের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না। দ্বিতীয় আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’, অর্থাৎ বিদেশি গর্ভবতী নারীদের কেবল সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রথা।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, "এটি অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তবে আমরা এখন বিষয়টি বাস্তবায়ন করছি।" একই সঙ্গে তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আগের প্রচেষ্টা নাকচ করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন।

প্রথম নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, "আমার প্রশাসন সবসময় সেইসব ক্ষতিকর বিদেশি গোষ্ঠীর ঝুঁকি মোকাবিলা করেছে, যারা আমাদের দেশের উদারতার সুযোগ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণার চেষ্টা করে।"

নতুন আদেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর বাবা-মা যদি উভয়েই অ-নাগরিক হন এবং তাদের একজন বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, কোনো বিদেশি সরকারের কর্মচারী, জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছেন অথবা এমন কোনো মার্কিন ভূখণ্ডে বসবাস করেন যেখানে ফেডারেল আইনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব স্বীকৃত নয়—তাহলে সেই শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে না।

উল্লেখ্য, পুয়ের্তো রিকোর মতো মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব ফেডারেল আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই বার্থ ট্যুরিজম–এর বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের কিছু নাগরিক জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করেন।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে নির্বাহী আদেশ ঘোষণার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, বার্থ ট্যুরিজমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে "লাখ লাখ" শিশুর জন্ম হয়েছে।

তবে অভিবাসনবিষয়ক নিরপেক্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট বলছে, আদমশুমারিভিত্তিক সর্বোচ্চ হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৬ হাজার শিশু বার্থ ট্যুরিজমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়। প্রতিষ্ঠানটির উদ্ধৃত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিদেশি ঠিকানাধারী মায়েদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার ৬০০।

হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান স্টাফ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, "অনেকে পর্যটক বা দর্শনার্থী সেজে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। কিন্তু প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে এখানে সন্তান জন্ম দেওয়া, যাতে শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। এরপর তারা দেশ ছেড়ে চলে যান, কিন্তু সেই সন্তানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কল্যাণমূলক সুবিধা, ভোটাধিকার এবং অন্যান্য নাগরিক অধিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।"

মিলারের মতে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট–এর একটি ধারার অধীনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা রয়েছে কারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন, সে বিষয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করার। সেই ক্ষমতাবলেই বার্থ ট্যুরিজম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিকেই ট্রাম্প সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী-তে নিশ্চিত করা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্দেশ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।

সেই আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শেষে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে যায়। গত জুনে আদালত রায় দেয়, ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের সেই নীতি কার্যকর করা যাবে না এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল থাকবে।

এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও নাগরিকত্বনীতি কঠোর করার প্রচেষ্টার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট একটি খারাপ ও অত্যন্ত অন্যায্য সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এর কারণে আমাদের দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমরা ভিন্ন উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করছি।"

সূত্র: বিবিসি 

Maz
আরও পড়ুন